সালমান শাহ ও আঁখি আলমগীর বাল্যকাল থেকেই ছিলেন বন্ধু, সামনে এলো অজানা স্মৃতি
ঢালিউডের প্রয়াত জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ ও কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীরের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা ও বন্ধুত্বের। সালমান শাহ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার অনেক আগেই আঁখি আলমগীরের পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।
আঁখি আলমগীরের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পরিবারে সালমান শাহকে ‘সালমান শাহ’ নামে নয়, বরং তার আসল নাম ইমন নামেই ডাকা হতো। শৈশব থেকেই পারিবারিক যোগাযোগের কারণে তাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল যে বয়সের পার্থক্য থাকলেও সবাই একে অপরকে খুব আপনজনের মতো সম্বোধন করতেন।
আঁখি জানান, সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী রাজনীতির পাশাপাশি গানও করতেন। বিটিভিতে আঁখির মা কবি খোশনূর আলমগীরের লেখা একটি গান নীলা চৌধুরী পরিবেশন করেছিলেন। সেই সূত্রেই দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সেই পারিবারিক সম্পর্কের মাধ্যমেই আঁখিদের সঙ্গে ইমনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
‘ইমনকে ভাই বলতাম না, তুই-তুই করতাম’
সালমান শাহ বয়সে আঁখি আলমগীরের চেয়ে বড় ছিলেন। কিন্তু তাদের সম্পর্কের মধ্যে বয়সের ব্যবধান বড় কোনো বিষয় ছিল না। আঁখির স্মৃতিচারণে জানা যায়, তারা একে অপরকে নাম ধরে ডাকতেন এবং ‘তুই-তুই’ করেই কথা বলতেন। শুধু আঁখি নন, তাদের পারিবারিক বন্ধুমহলের অন্য সদস্যরাও সালমানের সঙ্গে একইভাবে ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
এ কারণেই পরবর্তীতে সালমান শাহ যখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন, তখনও আঁখি আলমগীরের কাছে তিনি মূলত সেই পরিচিত ‘ইমন’ই ছিলেন। তারকা হওয়ার পরও শৈশবের সেই বন্ধুত্বের স্মৃতিতে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি বলে আঁখির বক্তব্যে উঠে এসেছে।
নায়ক হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই
আঁখি আলমগীর আরও জানিয়েছেন, সালমান শাহ ছোটবেলা থেকেই নিজেকে নায়ক হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। তাদের পরিবার যেহেতু সংগীত ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাই আঁখির মা খোশনূর আলমগীরের কাছেও সালমান বারবার চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ করতেন।
পরবর্তীতে আঁখির মা সালমান শাহকে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকেই তার চলচ্চিত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। পরে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ইমন নামের সেই তরুণই হয়ে ওঠেন দর্শকের প্রিয় সালমান শাহ।
আঁখির স্মৃতিতে সালমান ছিলেন অন্যরকম মানুষ
সালমান শাহকে স্মরণ করে আঁখি আলমগীর বলেছেন, তিনি অত্যন্ত ভালো ও প্রাণবন্ত একজন মানুষ ছিলেন। তার কাছে সালমানের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল একজন ভালো মানুষ ও পুরোনো পারিবারিক বন্ধু হিসেবে।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর বহু বছর পরও ভক্তদের কাছে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে স্মরণীয়। আর আঁখি আলমগীরের স্মৃতিচারণে সেই তারকা নায়ককে পাওয়া যায় আরও ব্যক্তিগত এক পরিচয়ে—পরিবারের আপনজন ও শৈশবের বন্ধু ‘ইমন’ হিসেবে।
এই কারণেই আঁখির সেই বক্তব্য—“সালমান শাহকে চিনি না, আমাদের বাসায় সালমান হলো ইমন”—অনেকের কাছেই আবেগঘন হয়ে উঠেছে। কারণ কোটি দর্শকের কাছে তিনি সালমান শাহ হলেও, কাছের মানুষদের স্মৃতিতে তিনি আজও সেই পুরোনো ইমন।