অবশেষে তানজিমের ব’য়ফ্রেন্ড রাজু স’মস্ত কিছু স্বী’/কার করে জানালো…See More

অবশেষে মুখ খুললেন তাজমিনের কথিত প্রেমিক রাজু! জিজ্ঞাসাবাদে জানালেন কক্সবাজার যাওয়া থেকে শেষ ফোনালাপের কথা
কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তাঁর কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরী। তাজমিনের সঙ্গে পরিচয়, কক্সবাজারে দেখা করা এবং সেখান থেকে তাঁর বাড়ি ফেরার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে রাজুর বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “সবকিছু স্বীকার করেছেন” শিরোনামের সঙ্গে প্রকাশিত তথ্যের পার্থক্য রয়েছে।

কী জানিয়েছেন রাজু?
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশি বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজু স্বীকার করেছেন যে তাজমিন কক্সবাজারে তাঁর কাছে এসেছিলেন এবং এক রাত সেখানে ছিলেন। পরদিন তাঁকে বাসে তুলে দেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন। তাঁদের পরিচয় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে হয়েছিল বলে রাজু জানিয়েছেন—এমন তথ্যও প্রতিবেদনে এসেছে।

কক্সবাজার সফর নিয়ে কেন এত আলোচনা?
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তাজমিন কক্সবাজারে গিয়ে রাজুর সঙ্গে একটি আবাসিক হোটেলে ছিলেন। পরে তিনি একাই বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন। কুমিল্লায় ফেরার পর তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হলে রাজুর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সফরের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।

রাজু কি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে রাজুর কাছ থেকে তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক ও কক্সবাজার সফর সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি তাজমিনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন—এমন তথ্য ওই প্রতিবেদনগুলোতে নেই।

অন্যদিকে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাই রাজুর বক্তব্য এবং সুমনের বিরুদ্ধে মামলার তথ্যকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজুর কী হয়েছে?
১৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রাজুকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাঁকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠিয়ে কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তদন্তে এখন কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?
তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে পুলিশ তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পোশাক ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ১২ অক্টোবর তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাঁর পোশাক ও জৈবিক নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং মোবাইল ফোনও ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। এসব পরীক্ষার ফল তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

শেষ কথা
তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পরিচয়, কক্সবাজারে তাঁদের সাক্ষাৎ এবং তাঁর বাড়ি ফেরার ঘটনাপ্রবাহ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে কারও বক্তব্যকে অপরাধ স্বীকার হিসেবে তুলে ধরতে হলে সেই বক্তব্যে ঠিক কী স্বীকার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজু তাঁদের সম্পর্ক ও কক্সবাজার সফর সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন; তাজমিন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলার পরবর্তী অগ্রগতি জানতে তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করাই যুক্তিযুক্ত।

Author: Banglar Somoy

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *