রংপুরের ৪ খুনের ঘটনায় ছেলে সিদ্ধার্থকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন বাবা
রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় আলোচিত দুই সন্দেহভাজনের একজন সিদ্ধার্থ দাস। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি ঘটনা—সিদ্ধার্থকে তার বাবা নিজেই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্তে নেমে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আটক করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুই তরুণের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। এ সময় সিদ্ধার্থের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে ছেলেকে পুলিশের কাছে নিয়ে যান বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর সিদ্ধার্থের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। একজন বাবা নিজের সন্তানকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে কেন তিনি নিজে ছেলেকে পুলিশের কাছে নিয়ে গেলেন এবং কী তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার পর বাড়ির ভেতরে অবস্থান, গোসল করা, খাবার খাওয়া এবং আলামত নষ্টের চেষ্টাসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাস্থলের আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধার্থসহ আটক ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা আইনগতভাবে সঠিক নয়। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন—এসব বিষয়ই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
চারজনের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর রংপুরে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।